মনোবিজ্ঞান কাকে বলে? মনোবিজ্ঞানের শাখা হিসেবে বিকাশ মনোজ্ঞ আলোচনা কর।

অথবা, মনোবিজ্ঞান বলতে কি বুঝ? মনোবিজ্ঞানের শাখা হিসেবে বিকাশ মনোবিজ্ঞা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

উত্তর : 

ভূমিকা : আধুনিক মনোবিজ্ঞান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান। প্রত্যেক মনোবিজ্ঞানী মানব জীবনের একেকটি দিক নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করে। ফলে মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উদ্ভব হয়েছে। মনোবিজ্ঞানের শাখাগুলোর মধ্যে বিকাশ মনোবিজ্ঞান অন্যতম। এ শাখায় মানুষের বিভিন্ন আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিকাশ মনোবিজ্ঞান মনোবিজ্ঞানের অন্যতম একটি শাখা।

মনোবিজ্ঞানের সংজ্ঞা : মনোবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Psychology’ যা দু’টি গ্রিক শব্দ ‘Psyche’ যার অর্থ মন বা আত্মা এবং logos অর্থ বিজ্ঞান থেকে উৎপত্তি হয়েছে। সুতরাং শাব্দিক অর্থে মনোবিজ্ঞানকে মন বা আত্মা সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান বলা হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে একে চেতনার বিজ্ঞান ও আচরণের বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে আধুনিক মনোবিজ্ঞানীগণ এর সাথে মানসিক প্রক্রিয়াকেও যুক্ত করেছেন।

আধুনিক সংজ্ঞা : নিম্নে মনোবিজ্ঞানের কয়েকটি আধুনিক সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো :

মর্গান, কিং, ওয়াইজ এবং স্কোপলার বলেন, “মনোবিজ্ঞান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ সম্বন্ধনীয় বিজ্ঞান এবং এটি মানুষের সমস্যায় বিজ্ঞানের প্রয়োগকে অন্তর্ভুক্ত করে।”

ক্রাইডার, গোথালস, কেভানহ এবং সলোমন বলেন- “মনোবিজ্ঞানকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।”

জন. এল. ভোগেল বলেন, “মনোবিজ্ঞান হলো আচরণ ও অভিজ্ঞতার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান এবং মানুষের সমস্যায় সেই জ্ঞানের প্রয়োগ।”

সুতরাং মনোবিজ্ঞান বলতে মানুষ ও প্রাণীর আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে বোঝায়।

মনোবিজ্ঞানের শাখা : মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রকার শাখা রয়েছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন শাখার। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একটি বিকাশ মনোবিজ্ঞান। নিম্নে সেটি আলোচনা করা হলো।

বিকাশ মনোবিজ্ঞান: বিকাশ মনোবিজ্ঞান মনোবিজ্ঞানের অন্যতম একটি শাখা। বিকাশ মনোবিজ্ঞান হলো মনোবিজ্ঞানের সেই শাখা যে শাখায় ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন এবং ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সেই সকল পরিবর্তনের পার্থক্য পর্যালোচনা করা হয়। মনোবিজ্ঞানের এ শাখা শুধু বয়স অনুযায়ী আচরণের বিবরণ প্রদান করে তা নয়, এটি বিভিন্ন বয়সে ব্যক্তিভেদে আচরণে যে পার্থক্য দেখা দেয় তার অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। যেমন- কোন বয়সে কোনো ব্যক্তি কি ধরনের আচরণ করে থাকে। এবং বয়সে বেশি ও কম বয়সীদের আচরণের মধ্যে কি ধরনের পার্থক্য দেখা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করে থাকে বিকাশ মনোবিজ্ঞান।

বিকাশ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। গর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে বিকাশ শুরু হয় এবং জন্ম মুহূর্ত থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মানুষের আচরণ নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়। আচরণের এই পরিবর্তন বিশেষ বিশেষ বয়সে দ্রুত ঘটে, আবার অন্যান্য বয়সে পরিবর্তনের গতি মন্থর হয়। আর এসব কারণের জন্য দেখা যায় মানব আচরণের বৈচিত্র্যতা। বিকাশ মনোবিজ্ঞানে গর্ভাবস্থা, আঁতুড়কাল, শৈশব কাল, বয়ঃসন্ধিকাল ও কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়, বার্ধক্য প্রভৃতি প্রতিটি পর্যায়ের বিকাশ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে থাকে। অর্থাৎ একটি শিশু যখন গর্ভে থাকে তখন তার বিকাশ কিভাবে হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করে বিকাশ মনোবিজ্ঞান। আবার শৈশবকাল, বাল্যকালে একটি শিশুর বিকাশ কিভাবে হয় এবং তাদের আচরণ কেমন হয় এবং শৈশবের শিশুর আচরণের সাথে বাল্যকালের শিশুর আচরণের মধ্যে পার্থক্য করা যায় সে সম্পর্কে জ্ঞান দান করে বিকাশ মনোবিজ্ঞান । প্রৌঢ়, বার্ধক্য আঁতুড়কাল প্রভৃতি বয়সের কার্যকারণ তাদের আচরণ এবং আচরণের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করে বিকাশ মনোবিজ্ঞান।

উপসংহার : বিকাশ মনোবিজ্ঞান একটি অন্যতম শাখা। এ শাখা একজন ব্যক্তির জন্মপূর্ব অবস্থা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তার বিকাশ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট আলোচনা করে যা একজন ব্যক্তির পূর্ণতা প্রাপ্তিতে সহায়তা করে থাকে। বিকাশ মনোবিজ্ঞান বয়সের সাথে সাথে বিভিন্ন আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং বিকাশ মনোবিজ্ঞান অন্যতম একটি শাখা মনোবিজ্ঞানের ।

Leave a Comment