মনোবিজ্ঞানের পরিচিতি অধ্যায়ের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। 

দৃশ্যকল্প-১: দিয়৷ স্কুলে গানের প্রতিযোগিতায় গান গাওয়ার শুরুতেই তার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গলা শুকিয়ে গেল ।

দৃশ্যকল্প-২: পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের কারণে আকাশের মন ভালো নেই। সে পিতামাতা, বন্ধুবান্ধব কারও সাথেই স্বাভাবিক আচরণ করে না। আকাশের সমস্যা সমাধানে তার বাবা-মা একজন মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য চাইলেন। অপরদিকে বড় ভাই জাফর তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শ্রমিক ব্যবস্থাপক, সৌহার্দ্য-স্থাপন ও পারস্পরিক সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এক সেমিনার আয়োজন করে প্রত্যাশিত ফল পান ।

ক. Psychology শব্দটি কোন দু’টি শব্দ থেকে এসেছে?

খ. চিন্তন একটি মানসিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

গ. দৃশ্যকল্প-১ এ দিয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের আচরণ প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ আকাশের সমস্যা এবং জাফরের সেমিনার কি মনোবিজ্ঞানের একই শাখায় আলোচিত হয়? বিশ্লেষণ করো।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. Psychology শব্দটি গ্রিক শব্দ Psyche এবং logos থেকে এসেছে।

খ. চিন্তন মানসিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত ।

মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্মৃতি, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রত্যক্ষণ পই | প্রভৃতিকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো ব্যক্তি পত্রিকায় দেখতে পেল যে, সে চল্লিশ লক্ষ টাকার প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছে। লটারি পাওয়ার প্রাথমিক আনন্দ প্রশমিত হবার পর ওই ব্যক্তি চিন্তা করছে সে চল্লিশ লক্ষ ছে। টাকা কীভাবে ব্যয় করবে। সে চিন্তা করছে গ্রামের দারিদ্র্যক্লিষ্ট সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রদানে একটি আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করবে। এ ধরনের চিন্তার সাথে সাথে সে কল্পনায় একটি হাসপাতালের কাঠামো দাঁড় করালো। এই যে কল্পনার জগতে বিচরণ— এটিই হলো মানসিক কার্যকলাপ ।

গ. দৃশ্যকল্প-১ এ দিয়ার ক্ষেত্রে অনৈচ্ছিক আচরণ প্রকাশ পেয়েছে ।

মানুষ বা প্রাণীর যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াসমূহ স্বয়ংক্রিয় অথবা অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাহ্যিক বা তার দেহাভ্যন্তরে সংঘটিত হয়, যা সে সহজে বা নার একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এমন সব কার্যকলাপকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে । যেমন- শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃৎপিণ্ডের গতি, রক্ত চলাচল ইত্যাদি নের দৃশ্যকল্প-১ এর বর্ণনায় দেখা যায়, দিয়া স্কুলে গানের প্রতিযোগিতায় গান গাওয়ার শুরুতেই তার হাত-পাত ঠাণ্ডা হয়ে গলা শুকিয়ে গেল। দিয়ার এসব আচরণ ছিল তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, দিয়ার আচরণে অনৈচ্ছিক আচরণ প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত আকাশের সমস্যা নির্দেশনা মনোবিজ্ঞান এবং জাফরের সেমিনার শিল্প মনোবিজ্ঞানের শাখায় আলোচিত হয়।

মৃদু আচরণজনিত সমস্যার সমাধানে নির্দেশনা মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে। ন নির্দেশনা হলো একটি সেবামূলক প্রক্রিয়া। জীবনধারণের জন্য যেসব বিষয় প্রয়োজন তা নির্ধারণের জন্য নির্দেশনার প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থার সাথে নির্দেশনা গভীরভাবে সম্পর্কিত। কোনো একজন শিক্ষার্থী লেখাপড়ার ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে অগ্রসর হলে সাফল্য লাভ করতে পারবে— এটি নির্ধারণের জন্য নির্দেশনা মনোবিজ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দৃশ্যকল্প-২ এর বর্ণনায় দেখা যায়, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের কারণে আকাশের মন ভালো নেই। সে পিতা, বন্ধু-বান্ধবের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করে না। আকাশের এ সমস্যা সমাধানের জন্য জন্য নির্দেশনা মনোবিজ্ঞান প্রয়োজন ।

শিল্প-কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষে শিল্প মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে। শিল্প-কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন, তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি শিল্প মনোবিজ্ঞানের বিষয়ভুক্ত। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে কর্মচারীদের দক্ষতা, মনোবল ও কর্মসন্তুষ্টি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই কর্মচারীর দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি এবং কর্মে সন্তুষ্টি বিধান শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য।

দৃশ্যকল্প-২ এর বর্ণনায় দেখা যায়, জাফর তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য শ্রমিক ব্যবস্থাপক, সৌহার্দ্য স্থাপন ও পারস্পরিক সম্ভাব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে প্রত্যাশিত ফল পান । অর্থাৎ তিনি শিল্প মনোবিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ করে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধি করেন ।

 

প্রশ্ন ২। 

দৃশ্যকল্প-১: শিক্ষকের কঠোরতার কারণে সীমার আচরণে। এক ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। সে এখন বই-খাতা দেখলে ভয় পায়। বিষয়টি নিয়ে তার বাবা-মা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েন। বাবা- । তাকে নিয়ে একজন মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হন। এতে সীমা ক্রমেই সুস্থ হয়ে ওঠে।

দৃশ্যকল্প-২: বাবা ছেলেকে বললেন, “সুর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।” পূর্বের এই ভুল স্বীকৃত ধারণাটি বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সর্বপ্রথম প্রমাণ উপস্থাপন করে বলেন, “পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে।” ধারণাটি পরবর্তীতে সকলেই গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথকে সাবলীল করেছে

ক. বিজ্ঞান কী?

খ. প্রাণীর আচরণ মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত কেন?

গ. সীমার বিষয়টি মনোবিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. বাবার বক্তব্য বিজ্ঞানের কোন কোন বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত? বিশ্লেষণ করো।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় কোনো বস্তু বাঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে আমরা যে জ্ঞান লাভ করি তাই বিজ্ঞান

খ. মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্যতম হচ্ছে প্রাণীর আচরণ ।

মনোবিজ্ঞানে মূলত মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অনুধ্যান করা হয়। তবে যেসব ক্ষেত্রে মানুষের ওপর পরীক্ষণ করা সম্ভব হয় না, বরং ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সেসব ক্ষেত্রে নিম্নতর প্রাণীর ওপর পরীক্ষণ পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এজন্যই প্রাণীর আচরণ মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ।

গ. উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ সীমার বিষয়টি মনোবিজ্ঞানের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান শাখায় আলোচিত হয়।

অস্বাভাবিক আচরণের গতি-প্রকৃতি ও তার ব্যাখ্যা, মানসিক রোগের লক্ষণ, কারণ ও তার চিকিৎসা পদ্ধতি প্রভৃতি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী প্রথমে রোগের লক্ষণ চিহ্নিত করে তার কারণ অনুসন্ধান করতে সচেষ্ট হন। তারপর রোগীর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী বিভিন্ন অভীক্ষা প্রয়োগ করে থাকেন। রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা গ্রহণ করে থাকেন উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ বর্ণনায় শিক্ষকের কঠোরতার কারণে সীমা এ অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং বই, খাতা দেখলে ভয় পায়। এতে সীমার বাবা-মা একজন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হলে তিনি সীমার দ্য আচরণের কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এতে সীমা ক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠে।তাই বলা যায় সীমার বিষয়টি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্গত।

ঘ. উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ বাবার বক্তব্যে বিজ্ঞানের যথার্থতা প্রমাণ ও প্রয়োগশীলতা বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত। গবেষণালব্ধ ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য হলো যথার্থতা প্রমাণ, যা কোনো বিষয়বস্তুর বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবী। দৃশ্যকল্প-২ এর বর্ণনায় দেখা যায় “সূর্যই পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে”। পূর্বের এই ভুল স্বীকৃত ধারণাটি বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সর্বপ্রথম প্রমাণ করে বলেন, “পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে” । সুতরাং বলা যায়, গ্যালিলিওর গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে। কোনো বিষয়বস্তুর গবেষণালব্ধ ফলাফলের যথাযথ ব্যবহার উপযোগিতাই হলো প্রয়োগশীলতা, যা কোনো বিষয়বস্তুকে বিজ্ঞানের মর্যাদা দান করে। যে জিনিস বা বিষয়কে বাস্তবে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা যায় না তাকে বিজ্ঞান বলা যায় না।

উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এর বর্ণনায় দেখা যায় গ্যালিলিওর ধারণাটি পরবর্তী সময়ে সকলেই গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথকে সাবলীল করেছে। অর্থাৎ তার প্রমাণিত বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বাস্তবে ব্যবহৃত হয়েছে যা মানুষের জীবনযাপনের পথকে সহজ ও সাবলীল করেছে। সুতরাং এদিক থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে বাবার বক্তব্য বিজ্ঞানের প্রয়োগশীলতা বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত।

 

প্রশ্ন ৩। 

সারোয়ার স্যার বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন করে দেখলেন ছাত্রী ডালিয়া ২৫ নম্বরের মধ্যে ২৫ এবং মল্লিকা ৭ পেয়েছে। মল্লিকার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় প্রধান খাতা পুনঃমূল্যায়ন করে দেখলেন সে ৭ নম্বরই পায়। এতে মল্লিকা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং চুপচাপ হয়ে যায়। কোথাও বেড়াতে যায় না এবং একাকী থাকতে চায়। এখন সে অল্পতেই রেগে যায়। অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর কোন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিবে এ নিয়ে প্রীতি খুবই চিন্তিত। কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। সিদ্ধান্ত নিতে তার সমস্যা হচ্ছে।

ক. মনোবিজ্ঞানের আধুনিক সংজ্ঞা দাও ।

খ. মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস কোন ধরনের আচরণ? ব্যাখ্যা করো।

গ. মল্লিকার খাতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কোন নীতির প্রয়োগ হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মল্লিকা ও প্রীতির সমস্যা সমাধানের বিষয়টি কি মনোবিজ্ঞানের একই শাখায় আলোচিত হয়? বিশ্লেষণ করো ।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. মনোবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া অনুধ্যান করে থাকে।

খ. মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস অনৈচ্ছিক আচরণ।

ব্যক্তির যে আচরণগুলো স্বয়ংক্রিয় এবং তার ইচ্ছার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় সেগুলো হলো অনৈচ্ছিক আচরণ। যেমন— হৃদপিণ্ডের ক্রিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস, আগুনে হাত লাগা মাত্র হাত সরিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।

গ. মল্লিকার খাতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ‘যথার্থতা প্রমাণ’ নীতির প্রয়োগ হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় কোনো বস্তু বা ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এক্ষেত্রে কত গুলো নীতি মেনে চলা হয়। এসব নীতির মধ্যে ‘যথার্থতা প্রমাণ’ অন্যতম। এ নীতি অনুসারে কোনো বিজ্ঞানী তার গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করার পর বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞানীগণ তার হুবহু পুনরুৎপাদন করে ফলাফল যাচাই করতে পারেন। অর্থাৎ একজন মনোবিজ্ঞানী যখন কোনো গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন তখন পৃথিবীর অন্য যেকোনো মনোবিজ্ঞানী তা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। পরীক্ষার ফলাফল যদি পূর্ববর্তী মনোবিজ্ঞানীর গবেষণার সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তবে তাকে যথার্থ বলা যায় ।

উদ্দীপকে মল্লিকার খাতা শ্রেণিশিক্ষক কর্তৃক মূল্যায়নের পর পুনরায় বিভাগীয় প্রধান খাতা পুনঃমূল্যায়ন করে একই ফলাফল পান। তাই এক্ষেত্রে মল্লিকার প্রাপ্ত নম্বরের যথার্থতা প্রমাণিত হয় । তাই বলা যায়, মল্লিকার খাতা মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ‘যথার্থতা প্রমাণ’ নীতির প্রয়োগ হয়েছে।

ঘ . উদ্দীপকে মল্লিকা ও প্রীতির সমস্যা সমাধানের বিষয়টি মনোবিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় আলোচিত হয়। মল্লিকা ও প্রীতির সমস্যা যথাক্রমে কাউন্সেলিং ও নির্দেশনা মনোবিজ্ঞানে আলোচিত হয়।

মনোবিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যক্তির মানসিক অশান্তি, বৃত্তি নির্বাচন, শিল্প সংকট, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা প্রভৃতি বিষয়ে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয় তাকে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান বলা হয়। কাউন্সেলিং সাহায্যকারী প্রক্রিয়া, যেখানে একজন কাউন্সেলর পেশাগত সম্পর্কের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের দ্বারা ক্লায়েন্টের আচরণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। এক্ষেত্রে তিনি ৩টি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। যেমন- প্রতিকারমূলক ভূমিকা, নিবৃত্তমূলক ভূমিকা এবং শিক্ষা ও বিকাশমূলক ভূমিকা।

অপরদিকে, নির্দেশনা মনোবিজ্ঞানে একজন মনোবিজ্ঞানী জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে ক্লায়েন্টের ছাত্রজীবনের পাঠক্রম নির্বাচন সমস্যা ও অকৃতকার্যতা, চাকরিগত সমস্যা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রদান করেন।

উদ্দীপকে মল্লিকা পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং চুপচাপ হয়ে যায়। তাকে একাকীত্ব পেয়ে বসে। এমতাবস্থায় সে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নিতে পারে। অন্যদিকে প্রীতির উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর কোন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেবে এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে তাই সে নির্দেশনা মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হতে পারে।

 

প্রশ্ন ৪। 

বিত্তশালী চৌধুরী সাহেব শহরে থাকেন । তার গ্রামের লোকের শিক্ষার লক্ষ্যে ১০ বছর পূর্বে একটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং যথাযথ শিক্ষা পরিবেশের অভাবে সেটি আজ বন্ধ হওয়ার পথে। চৌধুরী সাহেবের বন্ধু গাজী সাহেবে অসহায় বৃদ্ধ মানুষের কল্যাণের জন্য ঢাকার অদূরে একটি মানসম্পন্ন বৃদ্ধাশ্রম তৈরে করেন। টিভিতে একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেল এক বৃদ্ধ হাত নাড়িয়ে গাজি সাহেবের প্রশংসা করে লক্ষাৎকার দিচ্ছেন

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক.মনোবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অনুধ্যান করে।

খ. শিশু মনোবিজ্ঞান (Child Psychology) গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি শিশুর বিকাশ ও বৃদ্ধি সম্পর্কে আলোচনা করে ।

বয়স বাড়ার সাথে শিশুর যে শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে এবং শারীরিক বৃদ্ধির ফলে তার আচরণে যে পরিবর্তন ঘটে তা শিশু মনোবিজ্ঞানের মূল আলোচা বিষয়। শিশুর সামাজিক পরিবেশ বিশেষ করে তার পরিবার, খেলার সাথী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর শারীরিক, মানসিক, আবেগ, সামাজিক, নৈতিক বিকাশ প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনাই শিশু মনোবিজ্ঞানের মুখ্য উদ্দেশ্য।

গ. উদ্দীপকে চৌধুরী সাহেবের কাজটি শিক্ষাসংক্রান্ত মনোবিজ্ঞানে (Educational Psychology) আলোচনা করা হয় ।

শিক্ষা সংক্রান্ত মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞানের একটি উল্লেখযোগ্য বিকাশমান পরিধি। এর উল্লেখযোগ্য দিক হলো— শিক্ষণ ও শিক্ষাদানের বিভিন্ন কলা-কৌশল সম্পর্কিত পর্যালোচনা করা।

এখানে শিক্ষণ প্রক্রিয়া, শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা, শিক্ষণ ও শিক্ষাদানের বিভিন্ন কলা-কৌশল, ছাত্রশিক্ষক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য শিক্ষামূলক মনোবিজ্ঞান পাঠ একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাদান পদ্ধতি, পাঠ্যসূচির সাথে বয়স স্তরের সম্পর্কে ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য শিক্ষামূলক মনোবিজ্ঞান পাঠ প্রয়োজন। কারণ এসব বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞান মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে যেমন সমৃদ্ধ উদ্দীপকে চৌধুরী সাহেব শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। করে, তেমনি তার পরিধিকেও বিকশিত করে।  ফলে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অনুসারে শিক্ষাদানের সঠিক কলা- কিন্তু তার স্কুলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষার পরিবেশের সঠিক সমন্বয় কৌশল প্রয়োগ না করায় তার স্কুলটি আজ বন্ধ হওয়ার পথে।

ঘ. উদ্দীপকে গাজী সাহেবের মানব কল্যাণধর্মী কাজ মনোবিজ্ঞানের সমাজ মনোবিজ্ঞান শাখা আলোচনা করা হয় ।

সমাজ মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞানের একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক পরিধি। এর উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত আচরণের ক্ষেত্রে সমষ্টিগতভাবে সম্পর্কযুক্ত বিষয়সমূহের পর্যালোচনা ক্ষেত্র। এখানে ব্যক্তির সামাজিক সম্পর্কযুক্ত বিষয়সমূহ; যেমন— সামাজিকীকরণ, মনোভাব, দল, নেতৃত্ব, গুজব, প্রচারণা, জনমত, আগ্রাসন ইত্যাদি সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন নিয়ম-নীতি ও আচার-আচরণের বিভিন্ন শিক্ষার লক্ষ্যে ১০ বছর পূর্বে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থী, দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও শিক্ষক এবং যথাযথ শিক্ষা পরিবেশের অভাবে সেটি আজ বন্ধ হওয়ার পথে। চৌধুরী সাহেবের বন্ধু গাজী সাহেব অসহায় বৃদ্ধ মানুষের কল্যাণের জন্য ঢাকার অদূরে একটি মানসম্পন্ন বৃদ্ধাশ্রম স্থাপন গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক ও মিথস্ক্রিয়া তথা ব্যক্তির বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আচার-আচরণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য সমাজ মনোবিজ্ঞান পাঠ করা একান্ত প্রয়োজন। সমাজের বিভিন্ন নিয়ম-নীতির পাশাপাশি সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কিত জ্ঞান মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে যেমন সমৃদ্ধ করে, তেমনি তার পরিধিকেও বিকশিত করে।

উদ্দীপকে ‘গাজী সাহেব বৃদ্ধ মানুষদের কল্যাণের জন্য একটি মানসম্পন্ন বৃদ্ধাশ্রম করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান উন্নত হওয়ায় সেখানকার বৃদ্ধ ব্যক্তিগণ তার যথেষ্ট প্রশংসা করেন। সুতরাং, গাজী সাহেবের প্রতিষ্ঠানটি সমাজের বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর জীবনমান, চাহিদা, নিয়ম-নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস সকল কিছু বিবেচনায় রেখে সেবাদান করায় সমাজ মনোবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত

 

প্রশ্ন ৫।

শিক্ষক হিসেবে জনাব আতাহার আলী বেশ সুনামের অধিকারী তিনি শিক্ষকতা করেন একটি বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে। তিনি তার ক্লাসে শিক্ষণ, স্মৃতি-বিস্মৃতি, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কে এমন সব আলোচনা করেছেন, যা প্রশিক্ষণরত শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তার ফলপ্রসূ আলোচনা প্রশিক্ষণার্থীদের জ্ঞানের জগৎকে বিকশিত করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে।

ক. শিশু মনোবিজ্ঞান কী?

খ. মানুষের বাহ্যিক আচরণ ও অভ্যন্তরীণ আচরণ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা দাও ।

গ. শিক্ষক জনাব আতাহার আলীর আলোচিত মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুসমূহের ব্যাখ্যা দাও ।

ঘ. জনাব আতাহার আলীর বর্ণিত বিষয়গুলো ছাড়া মনোবিজ্ঞানের আরও ৫টি বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করো।

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. শিশুর শারীরিক, মানসিক, আবেগীয়, সামাজিক, নৈতিক বিকাশ প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করাই হলো শিশু মনোবিজ্ঞান।

খ. বাইরে থেকে যে সকল আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায়, যেমন কথা বলা, চলাফেরা, হাসা, গান গাওয়া প্রভৃতি বাহ্যিক আচরণ। আবার, যে সকল আচরণ বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না, সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে। যেমন— শারীরিক ব্যথা, মাথাধরা, চিন্তা করা, কবিতার ভাবনা ইত্যাদি।

গ. শিক্ষক জনাব আতাহার আলী তার ক্লাসে মনোবিজ্ঞানের যে বিষয়বস্তু আলোচনা করছেন তা হলে৷— শিক্ষণ, ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধি, স্মৃতি-বিস্মৃতি, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং স্নায়ুতন্ত্র ।

শিক্ষণ মানুষকে তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সামাজিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। তাই শিক্ষণ সম্পর্কিত মতবাদ, শিক্ষণের শ্রেণিবিভাগ, কী কী নিয়ম অভ্যাস করলে শিক্ষণ সহজ হয় প্রভৃতি মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। কোনো ঘটনা আমরা বহুদিন স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারি। আবার অনেক ঘটনায় আমরা বিস্মৃত হই। স্মৃতি-বিস্মৃতিজনিত আচরণ মনোবিজ্ঞানে বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে থাকে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের আধিক্য বা স্বল্পতার কারণে আচরণ বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে। আমাদের চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক এই পণইন্দ্রিয় স্নায়ুর সাহায্যে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সাথে যুক্ত।

জনাব আতাহার আলীর বর্ণিত বিষয় ছাড়া মনোবিজ্ঞানের আরও ৫টি বিষয়বস্তু রয়েছে। সেগুলো হলো প্রত্যক্ষণ, আরচণের অস্বাভাবিকতা, সামাজিক পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রে আচরণ, শিক্ষাক্ষেত্র আচরণ। সংবেদন কী করে আমাদের চেতনায় সাড়া জাগায়, কীভাবে প্রত্যক্ষণ সংঘটিত হয়, প্রত্যক্ষণ সংগঠনের নীতিমালাই বা কী, ভ্রান্ত ও অলীক প্রত্যক্ষণের পার্থক্য প্রভৃতি মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। অস্বাভাবিকতা কী এবং তা কীভাবে আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, অস্বাভাবিক আচরণের প্রকারভেদ, তার লক্ষণ ও কারণ এবং উপশমের ব্যবস্থা প্রভৃতিও মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু।

ঘ. মনোবিজ্ঞান যখন মানুষের আচরণ নিয়ে আলোচনা করে তখন সেই আলোচনা মানুষের সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটেই করে থাকে। কল-কারখানায় দক্ষ লোক নিয়োগ, শ্রমিক অসন্তোষের কারণ নিরূপণ করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রের আচরণ বিশ্লেষণেও মনোবিজ্ঞান এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কোন পদ্ধতিতে সহজে এবং সার্থকভাবে শিক্ষাদান করা যায়, ছাত্র অসন্তোষের কারণ নির্ণয় ও প্রতিকার, ছাত্রদের মানসিক সামর্থ্য অনুযায়ী যুগোপযোগী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন প্রভৃতি মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়।

 

প্রশ্ন ৬। 

প্রফেসর জোহা স্যার ২০১৯-২০২০ সেশনের প্রথম ক্লাসে এমন একটি বিষয় আলোচনা করলেন, যা মানুষের আচরণ এবং এর অন্তরালে নিহিত শারীরবৃত্তীয় ও জ্ঞানগত প্রক্রিয়াসমূহ অনুধ্যান করে এবং এটি হলো সেই পেশা যা বাস্তব সমস্যায় এ বিজ্ঞানের সঞ্চিত জ্ঞানকে প্রয়োগ করে। এ সম্পর্কে কলেজ জীবনের প্রথম ক্লাসের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেনি অনিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তম অত্যন্ত আগ্রহ নিয়েই এ | বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করে। বর্তমানে সে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই বিষয় সম্পর্কিত কাজেই নিয়োজিত ।

ক. জ্ঞানীয় দৃষ্টিভঙ্গি কী?

খ. ‘মানসিক প্রক্রিয়া’ মনোবিজ্ঞানের পরিধির অন্তর্গত— ব্যাখ্যা করো।

গ. প্রফেসর জোহা স্যারের আলোচিত বিষয়ের ধারণা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. অনিকের পঠিত বিষয়টির পরিধির অন্যতম উপাদান হলো ‘মানুষ ও প্রাণীর আচরণ নিয়ে আলোচনা’ উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. জ্ঞানীয় দৃষ্টিভঙ্গি হলো আধুনিক মনোবিজ্ঞানের এমন একটি ধারা যার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সৃজনশীল সমাধান করা হয়।

খ. মানসিক প্রক্রিয়া মনোবিজ্ঞানের পরিধির অন্তর্গত। আধুনিক মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত পর্যালোচনাই হলো মনোবিজ্ঞান।

মনোবিজ্ঞানের পরিধির মধ্যে মানসিক প্রক্রিয়া অন্যতম। এ ছাড়াও রয়েছে আচরণ, জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক কার্যকলাপের প্রভাব অপরিসীম মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রেষণা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতিকে বোঝায়।

গ. প্রফেসর জোহা স্যারের আলোচিত বিজ্ঞানটি হলো মনোবিজ্ঞান।

মনোবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ Psychology। গ্রিক শব্দ Psyche এবং Logos থেকে Psychology শব্দটির সৃষ্টি হয়েছে। Psyche শব্দের অর্থ আত্মা এবং Logos শব্দের অর্থ জ্ঞান বা বিজ্ঞান। এ দুটির সমন্বয়ে গঠিত Psychology শব্দের আক্ষরিক অর্থ আত্মা সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান। কিন্তু আত্মা অতীন্দ্রিয় বস্তু। তাই পরবর্তীতে আত্মাকে বাদ দিয়ে মনকে করা হয়। মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়। তখন মনোবিজ্ঞানকে মন সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

মর্গান কিং, ওয়াইজ এবং স্কোপলার-এর মতে, “মনোবিজ্ঞান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান এবং এটি মানুষের সমস্যায় এ বিজ্ঞানের প্রয়োগকে অন্তর্ভুক্ত করে।”

ক্রাইডার এবং তাঁর সঙ্গীদের মতে, “মনোবিজ্ঞানকে আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।” উদ্দীপকে আলোচিত বিজ্ঞান মানুষের আচরণ ও এর শারীরবৃত্তীয় ও জ্ঞানগত প্রক্রিয়াসমূহ অনুধ্যান করে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে। তাই উক্ত বিষয়টিই মনোবিজ্ঞান তা বলা যায়।

ঘ. উদ্দীপকের অনিকের পঠিত বিষয়টির পরিধির অন্যতম উপাদান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ’ নিয়ে আলোচনা।

আচরণ হলো বাহ্যিক বস্তুর সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সংযোগ ঘটলে সামুতে উদ্দীপিত হয় এবং প্রাণী তার প্রতি বাহ্যিক ক্রিয়ার মাধ্যমে সাড়া দেওয়া। আচরণকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন- 

১. সামগ্রিক বা খণ্ডিত আচরণ, 

২. ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ এবং 

৩. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণ। 

সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয়। আর খণ্ডিত আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে ছোট ছোট ভাগে বিশ্লেষণ করা হয়। আবার ব্যক্তির ঐচ্ছিক আচরণ হলো সেসব আচরণ যেগুলো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ব্যক্তির যেসব আচরণ তার ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেসব আচরণকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। ব্যক্তির যে সকল আচরণ বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় বাহ্যিক আচরণ বলে। আবার যে সকল আচরণ তাকে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে।

মনোবিজ্ঞানীরা মূলত মানুষের আচরণ ও মানসিক কার্যকলাপ নিয়ে অনুধ্যান করেন। যে সকল ক্ষেত্রে মানুষের ওপর পরীক্ষণ করা সম্ভব হয় না, বরং ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সে সকল ক্ষেত্রে নিম্নতর প্রাণী যেমন— ইঁদুর, বিড়াল, কবুতর প্রভৃতির ওপর পরীক্ষণ পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই জন্য মানুষ ও প্রাণীর আচরণ মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয় ।

 

প্রশ্ন ৭। 

মানুষের মন, আচরণ, শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. আব্দুস সালাম বলেন, মন এবং আচরণ একে অন্যের পরিপূরক, মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা খুব সহজ নয়। আবার আচরণ মন দ্বারা প্রভাবিত। দর্শন, শ্রবণ, প্রত্যক্ষণ, প্রভৃতি মন ও আচরণের সাথে সম্পর্ক রেখেই ক্রিয়া করে। তিনি আরও বলেন, মানব শরীরের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী অঙ্গ হলো মস্তিষ্ক এবং এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে | নিয়ন্ত্রণ করে।

ক. সমাজ মনোবিজ্ঞান কী?

খ. সামাজিক পরিবেশ’ মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্গত ব্যাখ্যা করো।

গ. ড. আব্দুস সালাম পাঠ্যপুস্তকের যে ধারণার অবতারণা করেছেন তার ভিত্তির বর্ণনা করো।

ঘ. ড. আব্দুস সালাম যে বিজ্ঞানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তার উদ্ভব একদিনে হয়নি— উত্তরের যথার্থতা নিরূপণ করো ।

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক . মনোবিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যক্তির ওপর সমাজের রীতি-নীতির প্রভাব এবং সমাজের অন্যান্যদের ওপর ব্যক্তির আচরণের প্রভাব অধ্যয়নে মনোবৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ করা হয় তাকে সমাজ মনোবিজ্ঞান বলে।

খ . মনোবিজ্ঞান যখন মানুষের আচরণ নিয়ে আলোচনা করে তখন সেই আলোচনা মানুষের সামাজিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটেই করে থাকে।

সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তার আচরণের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। ব্যক্তির সামাজিকীকরণ, তার মনোভাব, ব্যক্তিমন ও গোষ্ঠীমন, জনতার আচরণ, প্রচারণা প্রভৃতি সামাজিক আচরণ এবং তাদের সকল প্রকার সামাজিক দিকও মনোবিজ্ঞানে আলোচনা করা হয়।

গ. ড. আব্দুস সালাম পাঠ্যপুস্তকের যে ধারণার অবতারণা করেছেন তা হলো মনোবিজ্ঞানের ভিত্তি। নিম্নে মনোবিজ্ঞানের ভিত্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

মনোবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে মূলত দর্শন ও শারীরবিদ্যাকে কেন্দ্র করে। দর্শন ও শারীরবিদ্যা ছিল প্রাচীন কালের অনুধ্যানের ক্ষেত্র। দর্শনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আত্মা, মন ও মানব প্রকৃতি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও তার সমাধানকে ঘিরে। মনোবিজ্ঞানীগণ দর্শনের এসব জ্ঞান ও ধারণাকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে অনুধ্যান করে মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। অতএব, মনোবিজ্ঞানের বিকাশে দর্শন ও শরীরবিদ্যার যৌথ প্রভাব রয়েছে। তাই তো আধুনিক মনোবিজ্ঞানের প্রথম পর্যায়ের বেশির ভাগ মনোবিজ্ঞানীই ছিলেন দার্শনিক ও শারীরবিদ, যেমন— উইলহেম উন্ড ও উইলিয়াম জেমস। সেজন্যই মনোবিজ্ঞানের আদি ভিত্তি নিহিত আছে দর্শন ও শারীরবিদ্যায়, তা থেকেই বর্তমানের মনোবিজ্ঞান বিকাশ লাভ করেছে।

উদ্দীপকে ড. আব্দুস সালাম যেসব বিষয়বস্তুর আলোচনা করেছেন সেগুলো মনোবিজ্ঞান নামক বিজ্ঞানের ধারণার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, হুক মনোবিজ্ঞানের ভিত্তি হচ্ছে দর্শন ও শরীরবিদ্যা ।

ঘ. আব্দুস সালাম যে বিজ্ঞানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা হলো কে মনোবিজ্ঞান। আর মনোবিজ্ঞানের বিকাশ একদিনে হয়নি। নিম্নে প্রশ্নের আলোকে বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো১৮৭৫ সালে পৃথকভাবে মনোবিজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাধারণত উইলহেম উন্ড এবং উইলিয়াম জেমসকে কৃতিত্ব প্রদান করা হয়। প্রায় ২৫ বছর পর, ১৯০০ সালে মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্য দুই দিকপাল স্বীয় কাজে পথিকৃত হয়ে আছেন। তাদের একজন রাশিয়ার শারীরবিদ আইভান পেট্রোভিচ প্যাভলভ, যিনি শিক্ষণ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে অনুধ্যান করেন, যা সাপেক্ষণ নামে পরিচিতি লাভ করে। অপরজন ভিয়েনার চিকিৎসক সিগমুন্ড ফ্রয়েড, যিনি তার বিখ্যাত কর্ম “স্বপ্নের ব্যাখ্যা” প্রকাশ করেন। ১৮৭৫-১৯০০ পর্যন্ত এই ২৫ বছরের মধ্যে মনোবিজ্ঞান তার নিজস্ব ধারায় চলে আসে।উপরিউক্ত আলোচনা থেকে একটি কথা সুস্পষ্ট যে ড. সালামের আলোচিত বিজ্ঞান অর্থাৎ মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব একদিনে হয়নি। এটি বিজ্ঞানীদের বহু দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল ।

 

প্রশ্ন ৮। 

রহিম সাহেব মনোবিজ্ঞানের একটি পরীক্ষণ কার্যের জন্য ১০০ জন পরীক্ষণ পাত্র ঠিক করলেন। ১০০ জনের ওপর পরীক্ষণ করে তিনি একটি সিদ্ধান্ত নিলেন। সে বছরই মনোবিজ্ঞান জার্নালে তার পরীক্ষণের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন দেশের মনোবিজ্ঞানীরা প্রতিবেদনটি। পড়ে পরীক্ষণটি করার পর একই সিদ্ধান্তে উপনিত হলেন। পরবর্তীতে রহিম সাহেব পরীক্ষণটির ফলাফল শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ব্যবহার করেন।

ক. মনোবিজ্ঞানের তিনটি শাখার নাম লেখো।

খ. জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় কেন?

গ. উদ্দীপকটিতে বিজ্ঞানের যে দুটি নীতি অনুসরণ করা হয়েছেতা বর্ণনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের শেষ লাইনটি বিজ্ঞানের কোন বিষয় বা ঘটনাকে ইঙ্গিত করছে? এটি মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে— মূল্যায়ন করো।

৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। নিম্নে তিনটি শাখার নাম লেখা হলোঃ

১. চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান

২. শিক্ষা মনোবিজ্ঞান

৩. শিশু মনোবিজ্ঞান

খ . মানব আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক রীতি-নীতি এবং কৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়।

মানুষ ও প্রাণীর আচরণ বিভিন্ন জৈবিক ঘটনাবলির পাশাপাশি তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দ্বারাও প্রভাবিত হয়। প্রতিটি মানুষই তার নিজস্ব সামাজিক রীতি-নীতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। এসব রীতি- নীতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষ ও প্রাণীর আচরণের ওপর জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক পরিবেশের এরূপ প্রভাবের কারণেই জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়।

গ. উদ্দীপকে বিজ্ঞানের সাধারণীকরণ ও যথার্থতা প্রমাণ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক অল্প নমুনার ওপর গবেষণা করে সমগ্র জনসমষ্টি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াকে সাধারণীকরণ বলে। একজন গবেষক বিশ্বের সব মানুষের ওপর গবেষণা পরিচালনা করতে পারে না। তিনি একটি প্রতনিধিত্বমূলক নমুনার ওপর গবেষণা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান। উদ্দীপকে রহিম সাহেব পরীক্ষণের জন্য সবাইকে না নিয়ে ১০০ জন। পরীক্ষণপাত্র ঠিক করে তাদের ওপর পরীক্ষণ করে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়৷ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাধারণীকরণ নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কোনো বিজ্ঞানীর গবেষণার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীগণ তার হুবহু পুনরুৎপাদন করে ফলাফল যাচাই করে দেখতে পারেন। যদি সংগতিপূর্ণ ফল পাওয়া যায় তবে উত্ত গবেষণাকে যথার্থ | বলা হয়। উদ্দীপকে রহিমের পরীক্ষণটি জার্নালে প্রকাশিত হলে বিভিন্ন দেশের মনোবিজ্ঞানীরা পরীক্ষণটি পুনরায় করার পর একই সিদ্ধান্তে পৌঁছালে পরীক্ষণটি যথার্থতা পায় ৷

ঘ. উদ্দীপকের শেষ লাইনটি বিজ্ঞানের প্রয়োগশীলতা বিষয় বা ঘটনাকে ইঙ্গিত করেছে।

কোনো বিষয়বস্তুর গবেষণালব্ধ ফলাফলের যথাযথ ব্যবহার উপযোগিতাই হলো প্রয়োগশীলতা । যা কোন বিষয়বস্তুকে বিজ্ঞানের মর্যাদা দান করে। যে জিনিস বা বিষয়কে বাস্তবে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা যায় না তা বিজ্ঞান নয়। এ কারণে মনোবিজ্ঞানীগণ যেসব বিষয় আবিষ্কার করেছেন, তা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগও করা হচ্ছে। অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে, মানসিক রোগীর চিকিৎসায়, সমাজজীবন, ব্যক্তিজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োগ করা হচ্ছে।

উদ্দীপকে রহিম সাহেব একটি মনোবৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরীক্ষণটি মনোবিজ্ঞানের জার্নালে প্রকাশিত হলে বিভিন্ন দেশের মনোবিজ্ঞানীরা সেটি পরীক্ষা করে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছান । পরবর্তীতে রহিম সাহেব পরীক্ষণটির ফলাফল শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ব্যবহার করলে পরীক্ষণটি মনোবৈজ্ঞানিক মর্যাদা পায়। কেননা কোনো পরীক্ষণের ফলাফল যদি বাস্তবে প্রয়োগ করা না যায় তাহলে তাকে বিজ্ঞান বলা যায় না। এ কারণেই শিল্প কারখানা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজজীবন, ব্যক্তিগত জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন প্রভৃতি প্রায় সব ক্ষেত্রেই মনোবিজ্ঞানের বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়। পরিশেষে বলা যায়, রহিম সাহেব তার মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষণ কার্যের জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং, পরীক্ষণটির বিষয়বস্তু, গবেষণা ও ব্যবহার যোগ্যতার কথা বিবেচনা করে পরীক্ষণটিকে নিঃসন্দেহে মনোবিজ্ঞানের বিজ্ঞান বলা যায় ।

 

প্রশ্ন ৯। 

অফিসের প্রধান কর্মকর্তার সাথে রিফাতের কোনো একটা বিষয়ে মতবিরোধ হওয়ায় তার কোনো কাজে মন বসছে না। দাম্পত্য জীবনেও রয়েছে তার নানা দ্বন্দ্ব ও কলহ। সব কিছু মিলে জীবনকে মূল্যহীন মনে হচ্ছে। এ সময় বন্ধু কামালের কথা মনে হলে সে তার বাড়ি গিয়ে দেখল কামাল গান করছে। সেখানে সে তার আরেক বন্ধু রহিমকেও পেল। রিফাতকে দেখে রহিম বলল, আমার পদোন্নতি হয়েছে। আমি যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করি সেখানে সবাই দক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং ভালো কাজের মূল্যায়ন হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। রিফাতের মন ভালো নেই জেনে কামাল বলল, আমি অনেকবার লক্ষ করে দেখেছি, প্রিয় গানগুলো শুনলে আমার মন ভালো হয়ে যায় ।

ক. মানসিক প্রক্রিয়া বলতে কী বোঝায়?

খ. গান গাওয়া একটি সামগ্রিক আচরণ’- ব্যাখ্যা করো।

গ. কামালের উক্তিটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কোন নীতিকে সমর্থন করে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. রিফাত ও রহিমের ঘটনাবলি কি মনোবিজ্ঞানের একই শাখার আলোচ্য বিষয়? যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

৯ নং প্রশ্নের উত্তর 

ক. মানসিক প্রক্রিয়া বলতে মানসিক কার্যকলাপ যেমন আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, প্রেষণা, প্রত্যক্ষণ, বিশ্বাস প্রভৃতিকে বোঝায়, যা সরাসরি বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না।

খ. গান গাওয়া একটি সামগ্রিক আচরণ। কারণ মানুষ বা প্রাণীর আচরণের একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থপূর্ণ রূপকে সামগ্রিক আচরণ বলে ।

সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে মানুষ বা প্রাণীর কোনো আচরণ বা কার্যকলাপকে বিচ্ছিন্ন বা ছোট ছোট অংশে বিভক্ত না করে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থপূর্ণ আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গান গাওয়ার ক্ষেত্রে ঠোঁটের নড়াচড়া, জিহ্বার নড়াচড়া, মুখের পেশি সঞ্চালন প্রভৃতি সংঘটিত হয়। কিন্তু সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে গান গাওয়াকে এভাবে বিভক্ত না করে পূর্ণাঙ্গ অর্থপূর্ণ আচরণ ‘গান গাওয়া’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গ. কামালের উক্তিটি অর্থাৎ প্রিয় গানগুলো শুনলে আমার মন ভালো হয়ে যায়।’ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কার্যকরী সংজ্ঞা’ নীতিকে সমর্থন করে।

কার্যকরী সংজ্ঞা হলো যে বিষয়ের ওপর অনুধ্যান করা হচ্ছে তা সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে সহজে পর্যবেক্ষণযোগ্য করে ব্যাখ্যা প্রদান করা। বিজ্ঞানীরা যখন কোনো বিষয়বস্তু সম্পর্কে গবেষণা করেন তখন তারা উক্ত বিষয়ের একটি কার্যকরী সংজ্ঞা প্রদান করেন। কার্যকরী সংজ্ঞা ছাড়া গবেষণার বিষয় অস্পষ্ট হয়ে পড়ে এবং উক্ত বিষয় সম্পর্কে কোনো দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। মনোবিজ্ঞানীরা আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার কার্যকরী সংজ্ঞার মাধ্যমে সুস্পষ্ট ও সঠিক ধারণা প্রদান করেন।

উদ্দীপকে কামালের উক্তিটি অর্থাৎ “প্রিয় গানগুলো শুনলে আমার মন ভালো হয়ে যায়।’ বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় যে, কামালের “প্রিয় গানগুলো শোনা’ হলো বাহ্যিক আচরণ এবং মন ভালো হওয়া’ হলো মানসিক প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে কামালের উক্তির দ্বারা বাহ্যিক আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ও সঠিক ধারণা লাভ করা যায়। তাই কামালের উক্তিটিকে মন ভালো হওয়া এবং প্রিয় গানগুলো শোনার মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যাকারী কার্যকরী সংজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করা যায়।

ঘ. রিফাত ও রহিমের ঘটনাবলি মনোবিজ্ঞানের একই শাখার আলোচ্য বিষয় নয়। রিফাতের ঘটনাবলি মনোবিজ্ঞানের ‘কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান’ শাখা এবং রহিমের ঘটনাবলি মনোবিজ্ঞানের ‘শিল্প মনোবিজ্ঞান’ শাখায় আলোচিত হয় ।

কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানে ব্যক্তির শিক্ষাগত, পেশাগত, পারিবারিক, বৈবাহিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকারের জন্য পেশাদার মনোবিজ্ঞানী সাহায্য করে থাকেন। এক্ষেত্রে কাউন্সিলর ও ক্লায়েন্টের অভিন্ন লক্ষ্য ও পারস্পরিক ব সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্যক্তির আচরণ পরিবর্তন, আত্মরক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধি, সম্পর্ক উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রভৃতির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কাউন্সেলিংয়ে কাউন্সিলর মূলত প্রতিকারমূলক, নিবৃত্তিমূলক এবং শিক্ষা ও বিকাশমূলক ভূমিকা পালন করেন ।

অপরদিকে, শিল্প-কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন,

তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি শিল্প মনোবিজ্ঞানের আওতাভুক্ত বিষয় । উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে কর্মচারীদের দক্ষতা, মনোবল ও কর্মসন্তুষ্টি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই কর্মচারীদের দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি এবং কর্মে সন্তুষ্টি বিধান শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য।

উদ্দীপকে রিফাতের আচরণগত সমস্যা থাকায় সে অফিসের প্রধান কর্মকর্তার সাথে সুসম্পর্ক রাখতে ব্যর্থ। একই কারণে সে দাম্পত্য জীবনেও নানা দ্বন্দ্ব ও কলহে জড়িয়ে আছে। তাই তার আচরণের পরিবর্তনের জন্য কাউন্সিলরের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। রহিমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন রহিমের পদোন্নতি পাও তার প্রতিষ্ঠানের সবাই দক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সেখানে ভালো কাজের মূল্যায়ন হয়। তাই রহিমের ঘটনাবলি শিল্প মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।

 

প্রশ্ন ১০। 

মি. ‘ক’ ও মি. ‘খ’ দুই বন্ধু। তারা একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক। মি. ‘খ’ তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত একটি পণ্যের গুণগত মান জানার জন্য উক্ত পণ্যের গ্রাহকদের মধ্য থেকে কিছু নমুনা দল সংগ্রহ করে তাদের মতামত নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌছালেন। মি. ‘ক’ও একই উদ্দেশ্যে বিষয়টি যাচাই করলেন।

ক. মনোবিজ্ঞান কী?

খ. মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

গ. মি. ‘ক’ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কোন নীতি অবলম্বন করেছেন ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মি. ‘ক’ ও মি. ‘খ’-এর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একই নীতি না ভিন্ন নীতি কার্যকর তা ব্যাখ্যা করো।

১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. মনোবিজ্ঞান হলো প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞান।

খ. মানব আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক রীতিনীতি এবং কৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে মনোবিজ্ঞানকে জৈব- সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়।

মানুষ ও প্রাণীর আচরণ বিভিন্ন জৈবিক ঘটনাবলির পাশাপাশি তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দ্বারাও প্রভাবিত হয়। প্রতিটি মানুষই তার নিজস্ব সামাজিক রীতি-নীতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। এসব রীতি- নীতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষ ও প্রাণীর আচরণের ওপর জৈবিক ঘটনাবলি ও সামাজিক পরিবেশের এরূপ প্রভাবের কারণেই মনোবিজ্ঞানকে জৈব-সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়।

গ. উদ্দীপকে মি. ‘ক’ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি ও যথার্থতা প্রমাণ নীতিসমূহ অবলম্বন করেছেন।

পুনরাবৃত্তি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ নীতিতে পূর্বে পরীক্ষিত কোন বস্তু বা ঘটনাকে ইচ্ছানুসারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পুনরায় সৃষ্টি করে গবেষণাকার্য পরিচালনা করা হয়। অন্যদিকে, যথার্থতা প্রমাণ হলো কোনো একটি গবেষণা বা পরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের পর তার সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য ঐ পরীক্ষণটি পুনরায় হুবহু পরীক্ষণ করে ফলাফল যাচাই করা। এই উভয় প্রকার বৈশিষ্ট্যই মনোবিজ্ঞানে ব্যবহৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুরোপুরি বিদ্যমান।

উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, মি. ‘ক’ তার বন্ধু এবং ব্যবসায়িক অংশীদার মি. ‘খ’-এর গৃহীত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্য মি. ‘খ’-এর অনুসরণকৃত বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে দেখেন। এখানে মি. ‘ক’ নমুনা দল গঠন করে মি. ‘খ’-এর মতো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর তাদের মতামত গ্রহণ করেন এবং তা মি. ‘খ’-এর গৃহীত সিদ্ধান্তের সাথে কতটা সংগতিপূর্ণ তা যাচাই করেন। উদ্দীপকে মি. ‘ক’-এর পূর্বের ন্যায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে গবেষণা করাকে পুনরাবৃত্তি এবং মি. ‘খ’- এর সাথে তার প্রাপ্ত ফলাফলকে তুলনা করাকে যথার্থতা প্ৰমাণ বলা হয় । তাই মি. ‘ক’ যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি ও যথাযর্থতা প্রমাণ নীতিসমূহ অবলম্বন করেছে তা খুব সহজেই অনুমেয়।

ঘ. উদ্দীপকে মি. ‘ক’ ও মি. ‘খ’-এর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিন্ন ভিন্ন নীতি কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার গবেষণা পদ্ধতি। গবেষণা পদ্ধতি বলতে মূলত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকেই বোঝানো হয়ে থাকে যা কার্যকরী সংজ্ঞা, ব্যক্তি-নিরপেক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ, পুনরাবৃত্তি, সাধারণীকরণ ও যথার্থতা প্রমাণ প্রভৃতি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত এসকল নীতির যথাযথ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষণালব্ধ ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য ও মানব কল্যাণে প্রয়োগযোগ্য করে তোলা সম্ভব হয়। ফলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যার সমাধানে এ পদ্ধতির প্রয়োগ গুরুত্ব লাভ করে।

উদ্দীপকে মি. ‘খ’ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাধারণীকরণ নীতি অবলম্বন করেন। অল্পসংখ্যক দৃষ্টান্ত থেকে সাধারণ সত্যে উপনীত হওয়াকে সাধারণীকরণ বলে। আমরা উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই যে, মি. ‘খ’ তার প্রতিষ্ঠানের একটি পণ্যের গুণগত মান যাচাই করার জন্য উক্ত পণ্যের গ্রাহকদের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যক নমুন৷ দল সংগ্রহ করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে নমুনা দলে যারা অংশগ্রহণ করেনি তারাও ঐ দ্রব্যের গুণগত মান সম্পর্কে কীরূপ মতামত প্রদান করবে তা ধারণা করা হয়। একে সাধারণীকরণ বলে। পক্ষান্তরে, মি. ‘খ’-এর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও যথার্থতা যাচাই করার জন্য পুনরায় নমুনা দল গঠনপূর্বক মি. ‘ক’ ফলাফল যাচাই করেন। এক্ষেত্রে তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি ও যথার্থতা প্রমাণ নীতিসমূহ অবলম্বন করেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দেশ্য এক হলেও মি. ‘ক’ ও মি. ‘খ’-এর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিন্ন ভিন্ন নীতি ব্যবহৃত হয়েছে। তবে উভয়ের অবলম্বনকৃত নীতিসমূহ তাদের গবেষণার উদ্দেশ্যকে পরিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Leave a Comment