মনোবিজ্ঞানের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা দাও।

অথবা, মনোবিজ্ঞানের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা বলতে কি বুঝ?

উত্তরঃ

ভূমিকা : 

সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে মনোবিজ্ঞান নিজেকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে উন্নীত করেছে। মনোবিজ্ঞান আজ একটি বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান হিসেবে পরিগণিত। এ বিজ্ঞান মানুষের বিভিন্ন সমস্যার প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রতিনিয়ত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, মনোবিজ্ঞানীগণ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর আচরণের বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে উপাত্ত সংগ্রহ করে এর বিশ্লেষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ফলে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা : 

Crider and others (1983) এবং John. C Ruch (1984) প্রদত্ত সংজ্ঞাটি মনোবিজ্ঞানের গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মনোবিজ্ঞান হল মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান।

মনোবিজ্ঞানের এ সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণ করলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। যথা :

১. আচরণ,

২. মানসিক প্রক্রিয়া,

৩. মানুষ ও প্রাণী এবং

৪. বিজ্ঞান।

এগুলো নিম্নে আলোচনা করা হল :

১. আচরণ : উদ্দীপকের সম্মুখীন হয়ে প্রাণী যে প্রতিক্রিয়া করে, তাকেই আচরণ বলে। উদ্দীপক বাহ্য প্রকৃতি থেকে বা দেহাভ্যন্তর থেকেও সৃষ্ট হতে পারে। বহির্জগতের যে কোন বস্তুর সাথে ইন্দ্রিয়ের সংযোগের ফলোয়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে যে শারিরীক প্রতিক্রিয়া ঘটায়, সে প্রতিক্রিয়াকেই আচরণ বলা হয়। সংক্ষেপে প্রাণী যাকিছু করে অর্থাৎ, সকল প্রক্রিয়া ও কার্যকলাপই তার আচরণ। আচরণ পর্যবেক্ষণসাপেক্ষ। হাসি, কান্না, খাওয়া, গান গাওয়া, লাফানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি সবই প্রাণীর আচরণ । তাছাড়া শারীরিক পরিবর্তন যেমন- রক্তচাপ, মস্তিষ্কের তরঙ্গ প্রভৃতিও আচরণের মধ্যে পড়ে।

২. মানসিক প্রক্রিয়া : মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, স্মৃতি, প্রেষণা, প্রত্যক্ষণ, বিশ্বাস ইত্যাদিকে বুঝায় । মানুষের যে কোন আচরণ কোন না কোন মানসিক প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। মানসিক কার্যকলাপ সরাসরি বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এসব প্রক্রিয়া অনুধ্যান করার জন্য মনোবিজ্ঞানীগণ বর্তমানকালে বিভিন্ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন ।

Read More-

৩. মানুষ ও প্রাণী : মনোবিজ্ঞান প্রধানত মানুষের আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। বিভিন্ন বিষয়ে উপাত্ত ও তথ্য সংগ্রহের জন্য মানব আচরণ অনুশীলন করা হয়। মানসিক ও নৈতিক কারণে মানুষের উপর যেসব পরীক্ষা সম্ভব নয়, সেসব পরীক্ষা মানবেতর প্রাণীর উপর করা হয়। কোন তথ্য সংগ্রহের জন্য মস্তিষ্কের ব্যবচ্ছেদ করতে হলে মানবেতর প্রাণীর উপরই তা করা হয়। মানুষের উপরে এ ধরনের পরীক্ষা চালানো অমানবিক এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় মানবেতর প্রাণীকে পরীক্ষণপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

৪. বিজ্ঞান: প্রকৃতির কোন বিশেষ বিভাগ নিয়ে সুষ্ঠু, যথাযথ, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ আলোচনাই হল বিজ্ঞান। বিজ্ঞানী তাঁর বিষয়বস্তুকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সূক্ষ্মাতিসূদরূপে বিশ্লেষণ করে কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে কিছু নিয়ম আবিষ্কার করেন। এর মধ্যে মনগড়া ধারণা বা অলীক কল্পনার কোন স্থান নেই। এ গবেষণালব্ধ জ্ঞান যথার্থ ও বস্তুনিষ্ঠ । বিজ্ঞানী তাঁর ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পক্ষপাত দ্বারা একে কোনক্রমে প্রভাবিত হতে দেন না।

উপসংহার : 

পরিশেষে বলা যায়, মনোবিজ্ঞানের উল্লিখিত সংজ্ঞাটি সবদিক থেকে পরিপূর্ণ ও যথার্থ। কেননা এ সংজ্ঞাটিতে মনোবিজ্ঞানের স্বরূপ ও প্রকৃতি আলোচনা করা হয়েছে, যা অন্যকোন সংজ্ঞায় পাওয়া যায় না। সুতরাং, মনোবিজ্ঞানের এ সংজ্ঞাটি গ্রহণযোগ্য।

Leave a Comment