মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু আলোচনা কর

অথবা, মনোবিজ্ঞানের বিষয়সমূহ সংক্ষেপে লিখ।

অথবা, মনোবিজ্ঞানের পরিসরগুলো তুলে ধর।

উত্তর : 

ভূমিকা: মনোবিজ্ঞান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান মনোবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিষয়ের সমস্যার সমাধান সম্পর্কে জানতে পারি। মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মনোবিজ্ঞান মানুষের বিভিন্ন ধরনের আচরণ নিয়ে আলোচনা করে থাকে। শিক্ষণ, ব্যক্তিত্ব, স্মৃতি ইত্যাদি দিক ও মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকে। মানসিক প্রক্রিয়ার বিকাশেও মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।

মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু : আধুনিক মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ ও প্রাণীর আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত পর্যালোচনাই হলো মনোবিজ্ঞান। তাই মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো :

(ক) আচরণ ও

(খ) মানসিক প্রক্রিয়া।

(ক) আচরণ : আচরণ হলো যে কোনো কার্যকলাপ যা পর্যবেক্ষণ করা যায়, লিপিবদ্ধ করা যায় এবং পরিমাপ করা যায়। জীবন্ত প্রাণীরা যা কিছু করে সবই এতে অন্তর্ভুক্ত বা আচরণের মধ্যে পড়ে। আচরণকে বিভিন্নভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

১. সামগ্রিক আচরণ : সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি পুর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা পড়ে। কোনো রাজনীতিবিদের জনসভায় ভাষণকে সামগ্রিক আচরণ বলে।

২. খণ্ডিত আচরণ : খণ্ডিত বা আণবিক আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে খণ্ড খণ্ড উপাদানে বিশ্লেষণ করা হয়। যেমনকথা বলার সময় ঠোট চোখের পলক ইত্যাদি খণ্ডিত আচরণ।

৩. বাহ্যিক আচরণ : যে সকল আচরণকে বাহিরে থেকে দেখা যায় তাকে বাহ্যিক আচরণ বলে। যেমন- চলাফেরা, কথা বলা ইত্যাদি ।

৪. অভ্যন্তরীণ আচরণ : যে সকল আচরণকে বাহিরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না তাকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে । যেমন— শারীরিক ব্যথা, চিন্তা করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে।

৫. ঐচ্ছিক আচরণ : যেসব আচরণ ব্যক্তি সচেতনভাবে করে থাকে বা যে সকল আচরণ ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন- হাঁটা, খাওয়া ।

৬. অনৈচ্ছিক আচরণ : যেসব আচরণ ব্যক্তি সচেতনভাবে করে না অর্থাৎ ব্যক্তির ইচ্ছা ছাড়া যেসব আচরণ হয়ে থাকে তাকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন- আগুনে হাত লাগা ইত্যাদি ।

Read More-

এছাড়া আরো কিছু আচরণ রয়েছে যেগুলো মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়বস্তু । যথাঃ

১. শিক্ষণ : শিক্ষণ মানুষকে তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সামাজিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলে। সুতরাং শিক্ষণ সম্পর্কিত মতবাদ, শ্রেণিবিভাগ ইত্যাদি বিষয় মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়।

২. ব্যক্তিত্ব : মনোবিজ্ঞান মানুষের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। ব্যক্তিত্বর স্বরূপ উপাদান, শ্রেণিবিভাগ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।

৩. বুদ্ধি : আচরণের মাধ্যমে বুদ্ধি প্রকাশ হয়ে থাকে। কিভাবে বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়, বুদ্ধির পরিচায়ক আচরণসমূহ কি কি? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।

(খ) মানসিক প্রক্রিয়া : মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক কার্যকলাপের প্রভাব অপরিসীম। মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রেষণা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতি মানসিক কার্যকলাপ। এ সকল বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ব্যক্তি আচরণের অন্তরালে বিরাজমান সকল সর্বজনীন নিয়মাবলি ও রীতিনীতিকে পরীক্ষা, নিরীক্ষা ও নির্ভুল পর্যবেক্ষণের সাহায্যে আচরণ ও তার সাথে সম্পৃক্ত সব বিষয়ই মনোবিজ্ঞানের পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে। 

Leave a Comment