আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক পটভূমি লিখ

অথবা, আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক পটভূমি বলতে কি বুঝ?

অথবা, আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক পটভূমি সম্বন্ধে যা জান লিখ।

উত্তর : 

ভূমিকা : হারম্যান এবিংহ মনোবিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রদূত। তিনি বলেন মনোবিজ্ঞানের এক সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মানুষ মন ও আচরণের রহস্য দেখে সব সময়ই বিস্ময়াভিভূত হত এবং সে ধারণায় মানব জাতির জন্মলগ্ন থেকেই মনোবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে দাঁড় করানোর মূলে উইলহেম উন্ড এবং উইলিয়াম জেমস অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯১৩ সালে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ওয়াটসন মনোবিজ্ঞানের এক নতুন তত্ত্ব প্রদান করেন, যা আধুনিক মনোবিজ্ঞান নামে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক পটভূমি: মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়েছে। এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়েছে। মনোবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হবার পিছনে অনেক মণীষীর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। যে সকল মতবাদের জন্য মনোবিজ্ঞান আধুনিক মনোবিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা স্বীকৃতি পেয়েছে সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো।

১. কাঠামোবাদ: জার্মান মনোবিজ্ঞানী উইলহেম উন্ড কাঠামোবাদের নীতি প্রণয়ন করেন এবং উইলহেম উন্ড সর্বপ্রথম ১৮৭৯ সালে মনোবিজ্ঞানের গবেষণাগার স্থাপন করেন। উত্তই প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজেকে একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এজন্য ১৮৭৯ সালকে মনোবিজ্ঞানের জন্মদিন বলে চিহ্নিত করেছেন। উন্ড মনোবিজ্ঞানকে মন ও মনের কাঠামোর অনুধ্যান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এ মতবাদ অনুসারে মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো চেতনা।

২. ক্রিয়াবাদ : মনোবৈজ্ঞানিক মতবাদসমূহের মধ্যে ক্রিয়াবাদই আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম মতবাদী ক্রিয়াবাদের শুরু হয় উইলিয়াম জেমস এর অবদানে। ক্রিয়াবাদের প্রথম উদ্দীপনা ছিল কাঠামোবাদের বিরোধিতা করা এবং কাঠামোবাদের সমালোচনা করতে গিয়েই ক্রিয়াবাদের প্রভৃতি উন্নতি সাধিত করেন। ক্রিয়াবাদী মনোবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা জন ডিউয়ি, জেমস এঙ্গেল এবং বিকাশ সাধনকারী রবাট এস উভয়ার্থ এবং হারঙ্গিকার। ক্রিয়াবাদীরা চেতনার পরিবর্তে মানসিক কার্যাবলিকে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু বলে চিহ্নিত করেন। ক্রিয়াবাদ পরিবেশের সঙ্গে মানুষের অভিযোজন প্রক্রিয়ায় তার আচরণ ও সচেতনতার কাজ বা ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

৩. অনুষঙ্গবাদ : অনুষঙ্গবাদের জন্ম হয় জ্ঞানের উৎস সম্পর্কিত দার্শনিক সমস্যা থেকে। গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল সর্বপ্রথম অনুষঙ্গবাদের সূত্রপাত করেন। মতবাদ হিসেবে অনুষঙ্গবাদকে স্বীকৃতি দিতে অনেক মনোবিজ্ঞানী বিরোধিতা করলেও নীতি হিসেবে আধুনিক মনোবিজ্ঞান এটি বিশেষ স্থান লাভ করে। পরবর্তীকালে জন লক, টমাস হবস, বার্কলে, হিউম প্রমুখ দার্শনিক অনুষঙ্গনীতির বিশেষ অনুসারী হয়ে ওঠেন। দুজন রুশ মনোবিজ্ঞানী অনুষঙ্গনীতি প্রয়োগ করে শিক্ষণের উপর গবেষণা চালান। এছাড়া থর্নডাইক অনুযঙ্গ নীতির ভিত্তিতে শিক্ষণের উপর বহু গবেষণা পরিচালনা করেন।

৪. আচরণবাদ : বস্তুনিষ্ঠ মনোবিজ্ঞানের একটি প্রণালি হিসেবে আচরণবাদ, যার প্রবর্তক ছিলেন জন ব্রোডাস ওয়াটসন। ওয়াটসনের মতে মনোবিজ্ঞান হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সেই শাখা যার বিষয়বস্তু হলো মানুষের শিক্ষার্জিত এবং অ-শিক্ষার্জিত সব ধরনের আচরণ যা সে করে এবং বলে। তিনি মনে করেন মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় মানসিক জীবন এবং চেতনার উল্লেখের কোনো প্রয়োজন নেই কারণ এগুলো আনুমানিক ধারণা মাত্র। ওয়াটসনের মতে আচরণের। যথা- 

১. উদ্দীপকের জ্ঞান থেকে সম্পর্কে পূর্বানুমান করা এবং 

২. আচরণের জ্ঞান থেকে উদ্দেশ্য উদ্দীপক সম্পর্কে পূর্বানুমান করা।

উপসংহার: মনোবিজ্ঞান গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানীর গবেষণা, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতার ফলে উইলহেম উন্ড কর্তৃক ১৯৭৯ সালে মনোবিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন হবার পরপরই মনোবিজ্ঞান আধুনিক মনোবিজ্ঞানের স্বীকৃতি লাভ করে। সুতরাং বলা যায় যে আধুনিক মনোবিজ্ঞান একদিনেই তৈরি হয়নি।

 

Leave a Comment