অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন নং – ১ঃ শেফালীর বয়স তেরো বছর। কিন্তু তার মা-বাবা ত্রিশ বছর বয়সের নাসিরের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। নগদ বিশ হাজার টাকা এবং দুই ভরি গহনার ব্যবস্থা করতে গিয়ে হিমশিম খায় শেফালীর দিনমজুর বাবা। বিয়ের দিন বিশ হাজার টাকা এবং এক ভরি ওজনের গহনা দেখে নাসির এবং তার আত্মীয়-স্বজন বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায়। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে শেফালী স্বেচ্ছায় চির নির্বাসন নেয় এই পৃথিবী থেকে।

গ)উদ্দীপকে উল্লিখিত শেফালী চরিত্রের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অপরিচিতার সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।

ঘ) “উদ্দীপকের সমাজবাস্তবতা ‘অপরিচিতা’ গল্পের সমাজবাস্তবতারই আংশিক প্রতিচ্ছবি।”-বিশ্লেষণ কর।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) যৌতুকের শিকার এবং একে কেন্দ্র করে বিবাহ ভেঙে যাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের শেফালী এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য থাকলেও বিবাহ ভাঙার ঘটনার ধরণ, বয়স এবং শেষ পরিণতির দিক থেকে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

উদ্দীপকের শেফালী এবং গল্পের কল্যাণী উভয়ই সমাজের ঘৃণ্য প্রথা যৌতুকের স্বীকার। শেফালীর বিয়ে ঠিক হয় ত্রিশ বছর বয়সী নাসিরের সঙ্গে। নাসির বিয়ের যৌতুক হিসেবে নগদ বিশ হাজার টাকা এবং দুই ভরি গহনা চায়। কিন্তু কনের দিনমজুর পিতা তা দিতে অসমর্থ হলে নাসির বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায়। গল্পের কল্যাণীও অনুরূপ যৌতুকের শিকার। যৌতুককে কেন্দ্র করে তার বিবাহ ভেঙে যায়। তবে কল্যাণী এবং উদ্দীপকের শেফালীর সাথে কিছু বিষয়ে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। শেফালীর বয়স তের বছর। কিন্তু কল্যাণী পনের বছরের নব যৌবনা। যৌতুককে কেন্দ্র করে তাদের দুজনের বিবাহ ভাঙলেও ঘটনা ছিল দুই ধরনের। শেফালীর ক্ষেত্রে যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় বর পক্ষ বিবাহ ভেঙে দেয়। অপরদিকে কল্যাণীর ক্ষেত্রে কনে পক্ষ বরপক্ষের অসদাচরণের কারণে বিয়ে ভেঙে দেয়। আবার শেষ পরিণতির দিক থেকে দেখা যায় বিয়ে ভাঙার আপমান সহ্য করতে না পেরে শেফালী  করে। কিন্তু গল্পের কল্যাণী নিজেকে মাতৃভূমি সেবায় নিয়েজিত করে। নারী শিক্ষার ব্রত নিয়ে চিরকাল বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঘ) সমাজ বাস্তবতার একটি ঘৃণ্য ও প্রচলিত ঘটনা যৌতুক প্রথার বিষয়টি ফুটে ওঠার মাধ্যমে উদ্দীপকটির সমাজব্যবস্থা ‘অপরিচিতা’ গল্পের সমাজব্যবস্থাকে ধারণ করে আছে।

আমাদের সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন ‘সামাজিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে যৌতুক প্রথা। কাল পরিক্রমায় চলে আসা এই প্রথা বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করছে। এই প্রথার শিকার হয়ে অনেক মেয়ের জীবন অকালে ঝরে গেছে। কাউকে নিজের সোনালী স্বপ্নগুলো জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে। অনুরূপ দুটি মেয়ে উদ্দীপকের সোনালী এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়িকা কল্যাণী।

‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী পনের বছরের নব যৌবনা। বিয়ে ঠিক হয় অনুপমের সাথে। পণ হিসেবে দেয়া কল্যাণীর গায়ে জড়ানো গয়নাগুলো খাঁটি কিনা তা জানতে বিয়ের আসরে বরের মামা কনের বাবাকে পরীক্ষা করে দেখতে বলে। কনের বাবা অনেক অনুনয় বিনয় করে বোঝাতে চান যে কন্যার শরীর থেকে তা খুলে নেয়া অশোভন হবে। নাছোড়বান্দা মামার পীড়াপীড়িতে অনেকটা বাধ্য হয়ে কনের বাবা গয়নার শুদ্ধতা পরীক্ষা করে দেখান এবং অপমানের জবাবে কনের বাবা নিজে বিবাহ ভেঙে দেন। তখন থেকে কল্যাণী দেশাত্মবোধের চেতনায় বিয়ে আর না করার সিদ্ধান্ত নেয়। অনুরূপভাবে উদ্দীপকেও দেখা যায় শেফালী যৌতুকের নির্মম পরিহাসের শিকার। ত্রিশ বছরের নাসিরের সাথে শেফালীর নগদ বিশ হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণের যৌতুকের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু বিয়ের দিন কনের দিনমজুর বাবা যৌতুকের দাবি সংস্থানে অসমর্থ হলে নাসির বিবাহ ভেঙে দিয়ে চলে যায়। এতে অপমানিত হয়ে কন্যা শেফালী নিজের জীবন বিসর্জন দেয়। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, দুটি ভিন্ন পরিণতিতে উদ্দীপকের শেফালী এবং গল্পের কল্যাণী যৌতুকের বলি হয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রে আমাদের ঘৃণ্য সমাজবাস্তবতার প্রতিফলন লক্ষণীয়।

প্রশ্ন নং – ২ঃ একটি মাত্র দৃশ্যপটে স্থাপিত কোনো ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও তীব্র বিন্যাস, ঘটনাসূত্রের আকস্মিকতায় চরিত্রের চকিত উন্মোচন, কোনো একটি গূঢ় অনুভবের ওপর সন্ধানী আলোকপাত, ক্রান্তিলগ্নে নাটকীয়তার চমক- এভাবেই ছোটগল্প পৌঁছে যায় তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে। বাহুল্যহীন সংহত গঠনে, বিন্যাসের একমুখিতায়, সহজাত সংকেতময়তায় ‘ছোটগল্প’ নিজকে প্রতিষ্ঠিত করে এক স্বতন্ত্র, স্বাধীন শিল্পরূপে।

গ) উদ্দীপকের আপনাদের চমক ‘অপরিচিতা’ গল্পে কোথায় সৃষ্টি হয়েছে? নির্ণয় কর।

ঘ) উদ্দীপকের আলোকে ‘ছোটগল্প’ হিসেবে ‘অপরিচিতা’ গল্পের সার্থকতা বিচার কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকের নাটকীয়তার চমক ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর সাথে প্রথম দেখা হওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সার্থক ছোটগল্প রচনার পথিকৃৎ। ছোটগল্প সাহিত্যের এক অনুপম সৃষ্টি। উদ্দীপকে প্রকাশিত ছোটগল্পের নাটকীয় চমক ‘অপরিচিতা’ গল্পে বর্ণিত কানপুরের রেল স্টেশনের আকস্মিক ঘটনাটির মধ্যে দেখা যায়। সেখানে একটি আশ্চর্যমধুর কন্ঠধ্বনি ‘জায়গা আছে’ ট্রেনে বসে থাকা ও স্বপ্নলোকে ডুবে থাকা অনুপমের কানে এসে লাগে এবং তার মনকে ব্যাপকভাবে আন্দোলিত করে।

‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়ক অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে হবার কথা ছিল, যা এক অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে সম্পন্ন হয়নি। এরপর অনুপমের মধ্যে পরিবর্তন আসে। মেয়েটিকে অনুপম তার কল্পনায়, স্বপ্নে, বিচিত্র রঙে সাজাতে থাকে এবং ধিক্কার দিতে থাকে নিজের পৌরুষহীন আচরণকে। বছরখানেক পর সেই স্বপ্ন-প্রেয়সীকে হৃদয়ে ঠাই দিয়ে অনুপম তার মাকে নিয়ে তীর্থের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। গমনপথে কানপুর রেলস্টেশনে তার স্বপ্নময়তার নীরবতাকে ভেঙ্গে দেয় একটি মিষ্টি কন্ঠ। পরবর্তীতে দেখা যায়- সেই মধুর কণ্ঠধারী মেয়েটি আর কেউ নয়। সে কল্যাণী-যাকে অনুপম চোখেও দেখেনি। কল্যাণীর সঙ্গে দেখা হওয়াটা ছিল সত্যিই অপ্রত্যাশিত। কল্যাণীর মধুর কণ্ঠধ্বনি, অপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য অনুপমকে মুহূর্তেই যেন আকুল করে তোলে। রোমান্টিক ভাবনায় অনুপম হয়ে ওঠে স্বপ্নকাতর। এমন নাটকীয় চমক ছোটগল্পেরই অনবদ্য আকর্ষণ, যা উদ্দীপকেও নির্দেশিত হয়েছে। উদ্দীপকের এ উপলব্ধিটি গল্পের অনুপমের আত্মোপলব্ধির সাথে পুরোপুরিই সংগতিপূর্ণ।

ঘ) মিথ্যা অহমিকা আর নিছক লৌকিকতা পরিহার করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করলে প্রচলিত সমাজ অবশ্যই কুসংস্কারমুক্ত হবে। ‘অপরিচিঅ’ গল্পের শিখনফলও এটি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের এ উপলব্ধিটি যথার্থ ও সঠিক। আত্মেপলব্ধি মানুষের একটি মহৎ গুণ। এ বোধই মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে। কোনো কিছু হারিয়ে বা কঠিন বিপদ থেকে উত্তরণের পর মানুষের অন্যায় সম্পর্কে বোধোদয় হয়। উদ্দীপকে এমন এক উপলব্ধির ইঙ্গিত রয়েছে। যা আমরা ‘অপরিচিতা’ গল্পে লক্ষ করি। আর এ ধরনের উপলব্ধিই সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। গল্পের নায়ক অনুপম সমাজ, সংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে প্রথমে নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করলেও গল্পের শেষাংশের বোধোদয় তাকে সামান্য হলেও ভালো চরিত্র বলে প্রমাণ করে। প্রথমে পরিবারতন্ত্র থেকে বের হতে না পেরে সমাজের ঘৃণ্য যৌতুক এবং নারীর অবমাননাকে নীরবে সহ্য করেছে সৈ, কিন্তু অনেক দিন পর, যখন আকাঙ্ক্ষিত নারীর সাথে তার দেখা হয়, তখন পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে সে নিজের ভুলকে শুধরে নিতে চেয়েছে। হয়তো তার নায়িকা কল্যাণীকে বিয়ের আসর থেকে হারানোর পরই তার মনুষ্যত্ববোধ জেগে উঠেছে এবং বিবেকের তাড়নায় দগ্ধ হচ্ছে। তাই অর্থ ও সামাজিকতাকে উপেক্ষা করে সে কল্যাণীকে পাশে চেয়েছে। উদ্দীপকেও আমরা এ ধরনের উপলব্ধি লক্ষ করি। প্রতিটি মানুষ যদি এভাবে নিজেদের ভুল সংশোধন করে নেয় এবং মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করে তবে সমাজ থেকে অন্ধ বিশ্বাস আর কুসংস্কার দূরীভূত হবে। পরিশেষে বলা যায়, প্রত্যেক মানুষেরই নিজেদের কর্ম সম্পর্কে আত্মসমালোচনা থাকা প্রয়োজন। মানুষ যদি তাদের কাজের ভালোমন্দ বিচার করে, তবে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা থেকে মিথ্যা অহমিকা, অন্যায় আচরণ দূর করা সম্ভব হবে।

প্রশ্ন নং – ৩ঃ

এস.এস.সি পরীক্ষার কিছুদিন পূর্বে গ্রামের দুর্নীতিপরায়ণ চেয়ারম্যান পুত্রের সঙ্গে রুমার বিবাহ ঠিক করেন তারা বাবা। কিন্তু রুমা সুকৌশলে বিবাহ সভা থেকে উঠে থানা শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় বিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বর্তমানে রুমা কলেজে পড়ছে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রামের দুঃস্থ ও বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে।

গ) উদ্দীপকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?

ঘ) ‘অপরিচিতা’ গল্পের পুরো ভাব উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে কি? বিশ্লেষণ কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর

গ) সমাজকল্যাণমূলক কাজ করার দিক থেকে উদ্দীপকের রুমার সাথে “অপরিচিতা” গল্পের কল্যাণীর মিল রয়েছে।

সমাজে সমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সামাজিক কাজগুলো করা হয় তা–ই সমাজকল্যাণমূলক কাজ। নারী শিক্ষা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর কর্মসংস্থান প্রভৃতি সমাজকল্যাণমূলক কাজের অংশ। উদ্দীপকের রুমা ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী উভয়েই সমাজকল্যাণমূলক এই কাজগুলো করে উদ্দীপকের সাথে গল্পের সেতুবন্ধন রচনা করেছে।

‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর বিয়ের দিন বরপক্ষের অসদাচরণের জন্য তার বাবা শম্ভুনাথ বিয়ে ভেঙে দেন। বিয়ে ভাঙার পর পাত্রী কল্যাণীর জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন ঘটে। তার মধ্যে শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। কল্যাণী নারী জাগরণে আত্মনিয়োগ করে। নারী শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে সে সমাজের নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হয়। গল্পের শেষে অনুপম তার নিকট ফিরে এলেও কল্যাণী দৃঢ়চিত্তে তা প্রত্যাখ্যান করে। নারী শিক্ষার ব্রত নিয়ে সে সমাজকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসে। অনুরূপ চিত্র রুমার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। ব্লুমার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সে সমাজকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসে। নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি সে গ্রামের দুঃস্থ ও অবহেলিত নারীদের পাশে এসে দাঁড়ায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের জীবিকা অর্জনের পথ তৈরি করে। এ দিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে অন্যদিকে তাদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের রুমা এবং ‘অপরিচিতা গল্পের কল্যাণী উভয়েই সমাজের অবহেলিত নারীদের পাশে এসে একই সারিতে দাঁড়িয়েছে।

ঘ) ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর চিন্তা চেতনার সাথে উদ্দীপকের রুমার চিন্তা চেতনার মিল থাকলেওউদ্দীপকটিতে গল্পের পুরো ভাব ফুঠে ওঠেনি।

‘অপরিচিতা’ গল্পে লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ শতকের একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষিত ছেলের ব্যক্তিত্বহীনতা, পরিবারতন্ত্রের কাছে তার বিবেকের জলাঞ্জলি দেওয়া, যৌতুক প্রথার ঘৃণিত রূপ, দেশাত্মবোধ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারী শিক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে রুমা চরিত্রের মাঝে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর একটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে মাত্র।

অনুপম বিশ শতকের একজন শিক্ষিত ছেলে। কিন্তু তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার চরিত্রে রেখাপাত করেনি। পরিবারতন্ত্রের কাছে সে তার বিবেককে জলাঞ্জলি দিয়ে মূর্খের অন্যায়কে মৌন সম্মতি দেয়। বিয়ের আসর হতে কন্যার গয়নাগুলো পরীক্ষা করার জন্য মামার অন্যায় আবদারের প্রতিবাদ সে করেনি। কনের পিতা শম্ভুনাথ তার উপযুক্ত জবাব দেন কন্যা সম্প্রদানে অসম্মতি জানিয়ে। বিয়ে ভেঙে গেলে কল্যাণী নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়। দেশাত্মবোধ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয় কল্যাণী। কিন্তু উদ্দীপকে রুমার ক্ষেত্রেও বিয়ে ভাঙার ঘটনা ঘটে। তবে তা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। কল্যাণীর মতো রুমাও শেষে দেশাত্মবোধ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, ‘অপরিচিতা’ গল্পে লেখক বিরাট পরিসরে সমাজের বৈষম্যগুলো তুলে ধরেছেন কিন্তু উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়িকা কল্যাণীর চিন্তা-চেতনার আংশিক প্রতিফলন ঘটে। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটিকে সমর্থন দিলে অত্যুক্তি হবে না।

Leave a Comment